নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, মানুষ ভালো মানুষের সাথে থাকলে ভালো হবে আর খারাপের সাথে থাকলে খারাপ হবে এটাই সাভাবিক। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর এই সুন্দর ও উপদেশমূলক প্রসঙ্গের আলোকেই বলা যায়, একজন মানুষ হিসেবে সবচেয়ে ভালো ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানবকল্যাণে কাজ করা। ইসলামে একজন আদর্শ ও ভালো মানুষ হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ গুণের কথা বলা হয়েছে। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী তাঁর বিভিন্ন ইসলাম ও জীবন বিষয়ক কলাম ও আলোচনার মাধ্যমে মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং ভালো মানুষ হওয়ার চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
নিচে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান উপায়গুলো তুলে ধরা হলো:
তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা: জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা।
চরিত্রের মাধুর্য ও নম্রতা: মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অহংকার বর্জন করা।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ: দৈনন্দিন জীবনে নবীজী (সা.)-এর আদর্শ, সততা এবং ক্ষমাশীলতার গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ করা।
পরোপকার ও মানবসেবা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
হালাল উপার্জন ও সততা: সর্বদা সত্য কথা বলা এবং সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করা।
পিতামাতা ও প্রতিবেশীর হক আদায়: মা-বাবার বাধ্য থাকা এবং আশেপাশের মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো।
মানুষ ভালো মানুষের সাথে থাকলে ভালো হবে আর খারাপের সাথে থাকলে খারাপ হবে এটাই সাভাবিক। যার কারণে কোরআনে বারবার বলা হয়েছে তোমরা ভালো মানুষের সাথে থাকো, সত্যবাদীদের সাথে থাকো। এই সকল কথা বলার অর্থ হচ্ছে নামাজির সাথে থাকলে নামাজি হওয়া যাবে। সত্যবাদীদের সাথে থাকলে সত্যবাদী হওয়া যাবে। পবিত্র কোরআনের সূরা তাওবার একটি আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, হে ইমানদাররা! আল্লাহকে ভয়ে করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। (সূরা: তাওবা, আয়াত : ১১৯)
এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, সত্যবাদী ও সৎকর্মশীলদের সংস্পর্শ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে, সঠিক পথ দেখায়। ভালো মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। বর্তমান পরিবেশে পাপাচার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুবই কঠিন। তাই এ পরিবেশে তাকওয়া অবলম্বনের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো আল্লাহভীরু লোকদের সোহবত ও সাহচর্যে থাকা। কেননা আল্লাহ তায়ালা তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহভীরু লোকদের সাহচর্যে থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহভীরু লোকদের সঙ্গে থাকা, তাদের সঙ্গে সু সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে গুনাহ থেকে সহজেই বেঁচে থাকা যায়। কেননা মানুষ স্বভাবগতভাবেই পরিবেশের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। ফলে গুনাহের পরিবেশ বর্জন করে নেক ও সৎ লোকদের পরিবেশে নিজেকে নিয়ে এলে পাপাচার ছেড়ে দেওয়া সহজ হয়। পাপের পরিবেশ ছেড়ে পুণ্যের পরিবেশে আসা এবং বদকারদের ছেড়ে নেককারদের সাহচর্যে আসার এ প্রক্রিয়াকে আত্মশুদ্ধি বলা হয়।
আত্মশুদ্ধি হলো আত্মাকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করা। নাপাকির দরুন যেভাবে দেহ অপবিত্র হয়, একইভাবে গুনাহের দরুন অন্তর অপবিত্র হয়। বাহ্যিক বিষয়ে ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ, মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, দুর্নীতি, খুন-খারাবি, গিবত ছুগোল ঘুড়ি একে অন্যের কাছে বিবাদ সৃষ্টি কারী ইত্যাদি পাপ কাজ। একইভাবে আত্মিকভাবেও মানুষের অনেক পাপ-পঙ্কিলতা রয়েছে। অহংকার, আত্মগৌরব, লোকদেখানো কাজ করা, হিংসা, বিদ্বেষ, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, অন্যের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা ইত্যাদি অন্তরের পাপ। অন্যদিকে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি বাহ্যিক আমল। আর ইখলাস, তাকওয়া, সবর, শোকর ইত্যাদি হলো আত্মিক বা রুহানি আমল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সত্যবাদী ও খোদাভীরু আল্লাহর মায়ার বান্দা ওলি-আউলিয়াদের সাথে থাকার তাওফিক দান করুন আমিন।
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট।
নিচে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান উপায়গুলো তুলে ধরা হলো:
তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা: জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা।
চরিত্রের মাধুর্য ও নম্রতা: মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অহংকার বর্জন করা।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ: দৈনন্দিন জীবনে নবীজী (সা.)-এর আদর্শ, সততা এবং ক্ষমাশীলতার গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ করা।
পরোপকার ও মানবসেবা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
হালাল উপার্জন ও সততা: সর্বদা সত্য কথা বলা এবং সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করা।
পিতামাতা ও প্রতিবেশীর হক আদায়: মা-বাবার বাধ্য থাকা এবং আশেপাশের মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো।
মানুষ ভালো মানুষের সাথে থাকলে ভালো হবে আর খারাপের সাথে থাকলে খারাপ হবে এটাই সাভাবিক। যার কারণে কোরআনে বারবার বলা হয়েছে তোমরা ভালো মানুষের সাথে থাকো, সত্যবাদীদের সাথে থাকো। এই সকল কথা বলার অর্থ হচ্ছে নামাজির সাথে থাকলে নামাজি হওয়া যাবে। সত্যবাদীদের সাথে থাকলে সত্যবাদী হওয়া যাবে। পবিত্র কোরআনের সূরা তাওবার একটি আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, হে ইমানদাররা! আল্লাহকে ভয়ে করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। (সূরা: তাওবা, আয়াত : ১১৯)
এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, সত্যবাদী ও সৎকর্মশীলদের সংস্পর্শ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে, সঠিক পথ দেখায়। ভালো মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। বর্তমান পরিবেশে পাপাচার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুবই কঠিন। তাই এ পরিবেশে তাকওয়া অবলম্বনের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো আল্লাহভীরু লোকদের সোহবত ও সাহচর্যে থাকা। কেননা আল্লাহ তায়ালা তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহভীরু লোকদের সাহচর্যে থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহভীরু লোকদের সঙ্গে থাকা, তাদের সঙ্গে সু সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে গুনাহ থেকে সহজেই বেঁচে থাকা যায়। কেননা মানুষ স্বভাবগতভাবেই পরিবেশের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। ফলে গুনাহের পরিবেশ বর্জন করে নেক ও সৎ লোকদের পরিবেশে নিজেকে নিয়ে এলে পাপাচার ছেড়ে দেওয়া সহজ হয়। পাপের পরিবেশ ছেড়ে পুণ্যের পরিবেশে আসা এবং বদকারদের ছেড়ে নেককারদের সাহচর্যে আসার এ প্রক্রিয়াকে আত্মশুদ্ধি বলা হয়।
আত্মশুদ্ধি হলো আত্মাকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করা। নাপাকির দরুন যেভাবে দেহ অপবিত্র হয়, একইভাবে গুনাহের দরুন অন্তর অপবিত্র হয়। বাহ্যিক বিষয়ে ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ, মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, দুর্নীতি, খুন-খারাবি, গিবত ছুগোল ঘুড়ি একে অন্যের কাছে বিবাদ সৃষ্টি কারী ইত্যাদি পাপ কাজ। একইভাবে আত্মিকভাবেও মানুষের অনেক পাপ-পঙ্কিলতা রয়েছে। অহংকার, আত্মগৌরব, লোকদেখানো কাজ করা, হিংসা, বিদ্বেষ, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, অন্যের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা ইত্যাদি অন্তরের পাপ। অন্যদিকে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি বাহ্যিক আমল। আর ইখলাস, তাকওয়া, সবর, শোকর ইত্যাদি হলো আত্মিক বা রুহানি আমল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সত্যবাদী ও খোদাভীরু আল্লাহর মায়ার বান্দা ওলি-আউলিয়াদের সাথে থাকার তাওফিক দান করুন আমিন।
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট।
ধর্ম ডেস্ক